জিনাত হুদার বরখাস্তের প্রতিবাদে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ

জিনাত হুদার বরখাস্তের প্রতিবাদে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জিনাত হুদা। ছবি: সংগৃহীত 
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ট্রাইবুনাল গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’।

বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে চারটি দাবি তুলে ধরেন তারা।

সংগঠনটি দাবি করে, ‘অসত্য,ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির ফরমায়েসী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, শিক্ষকের মর্যাদা ও একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।’

আরও বলা হয়, ‘যুক্তিনির্ভর ও বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনার পরিবর্তে প্রশাসনিক হয়রানি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক শিক্ষার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

আরও পড়ুন

সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,অধ্যাপক জিনাত হুদার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং ট্রাইবুনাল প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করা
ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

এর আগে গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী ভূমিকায় জড়িত থাকার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই সিন্ডিকেট এই বরখাস্ত ও পরবর্তী ট্রাইবুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন জিনাত হুদা। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের একটিও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। শিক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অমেধাবীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই “সাদা দল” এই চক্রান্ত করছে।’ তিনি এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।

অধ্যাপক জিনাত হুদা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad