ইউপি নির্বাচন/ জামানত পাঁচ গুণ, ভোটের ব্যয় দ্বিগুণ

জামানত পাঁচ গুণ, ভোটের ব্যয় দ্বিগুণ
Advertisement
Advertisement

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানতের অর্থ পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব পরিবর্তন এনে বুধবার স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এ সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য পদে প্রার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।

জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনের ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে তা না নিলে ওই অর্থ অফেরতযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এর আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতো।

বিগত ইউপি নির্বাচনগুলোতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা দাখিলের বিধান ছিল না। নতুন বিধিমালায় বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে। তবে সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিধানটি রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতীয়মান হলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এই আদেশ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

এদিকে, বিধিমালার পরিপন্থী কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না। চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার বিধানও রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাব থেকে ব্যয় করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

দুই বা ততধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোটের বিধান করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সমভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবে কমিশন।

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন-এমন ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দ গোপন রাখার নির্দেশনা দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারের তালিকাও সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বল প্রয়োগ করে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা অপরাধ। একইভাবে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা বা প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন। কোনো প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

ইউপি নির্বাচনে যেসব প্রতীক বরাদ্দ

এদিকে, দীর্ঘ এক দশক পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। আগে চেয়ারম্যান পদে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ ছিল। এবার সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলো হলো কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এগুলো হলো উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক হলো আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad