জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে দেশটির টোকিও, ইবারাকি, চিবা, কানাগাওয়া ও শিজুওকা অঞ্চলের ১৯ লাখ ৮ হাজার ৬৪৫ বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাপানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবিসির খবরে বলা হয়, জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে টাইফুনটির প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের টানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটারের বেশি। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। দেশটির তোকাই অঞ্চলে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাইফুনের প্রভাবে এরই মধ্যে জাপানের যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুট মিলিয়ে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপান এয়ারলাইনস ১৩৫টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে।
এদিকে কানাগাওয়া এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে একটি বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এক নারী চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারী দমকলকর্মীরা। তাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে ‘দুজুয়ান’ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘূর্ণিঝড়টি অস্বাভাবিক শক্তি সঞ্চয় করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জাপানের কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


