জাপানকে লক্ষ্য করে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা চাইলেন মন্ত্রী

জাপানকে লক্ষ্য করে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা চাইলেন মন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অগ্রগতি নিয়ে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

বুধবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার এবং তুলনামূলক উচ্চ বেতনের সুযোগ থাকায় জাপান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাপান মূলত চারটি ভিসা ক্যাটেগরিতে কর্মী নিয়োগ করে। জাপান টাইমস-এর ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ক্যাটেগরির মধ্যে শুধু ইএসডি ও এসএসডব্লিউ ভিসা ক্যাটেগরিতেই ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১২ লাখের বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ২ দশমিক ৫ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অতিরিক্ত রয়েছে। এই জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে এর একটি বড় অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে এবং এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

আরও পড়ুন

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।

সভায় জাপানি ভাষার শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ, চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, জাপানে ভাষা শিক্ষার্থী ভিসায় শিক্ষার্থী পাঠানোর হার বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে এসএসডব্লিউ কর্মসূচির আওতায় ১৬টি খাতের মধ্যে বর্তমানে চালু থাকা ছয়টির পাশাপাশি বাকি ১০টি খাতে দক্ষতা পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ঢাকায় জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ, এসএসডব্লিউ ও ইএসডি পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, জাপানি কোম্পানির কাছ থেকে কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো এবং জাপান দূতাবাসের মাধ্যমে সম্ভাব্য শ্রমবাজার অনুসন্ধান করে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

এ সময় জাপানি ভাষা পরীক্ষার আসন সংখ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর প্রস্তাবও উঠে আসে।

স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশীয় জাপানি ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চ্যুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাপানি প্রশিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফ্যাকাল্টি মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর