নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় অর্থ প্রতারণার মামলার আসামির পরিবর্তে মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা-পুলিশ।
পরে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হলে ২০ দিন পর সোমবার তাকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জলিল হাওলাদারের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বাদশা। তিনি বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় তার মক্কেলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের পর তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন মহিপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম।
ওই দিন তাকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে ছিলেন। প্রায় ২০ দিন পর আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি মুক্ত হন।
গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, তার বাবাকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করেন। তার বাবার বিরুদ্ধে এমন কোনো মামলা নেই বলেও তিনি পুলিশকে জানান। তবে তার ও স্থানীয় লোকজনের আপত্তি উপেক্ষা করে পুলিশ দ্রুত জলিল হাওলাদারকে আদালতে পাঠায়।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামের মো. মালেক হাওলাদার ও মোসা. হালিমা খাতুনের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৪৭ বছর। তিনি পেশায় জেলে।
অন্যদিকে, মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারও একই এলাকার বাসিন্দা এবং আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মায়ের নাম মাজেদা বেগম এবং বয়স ৩৫ বছর।
প্রকৃত আসামির বড় ভাই হানিফ হাওলাদার বলেন, তার ভাই প্রায় তিন বছর ধরে প্রবাসে আছেন। তাদের বাবা আবদুল মালেক হাওলাদার জানান, তার ছেলে ২০২৩ সালের দিকে সৌদি আরবে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরেননি। ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি তিনি মহিপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকেই জানতে পারেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এতে মহিপুর থানার শিববাড়িয়া এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে মো. জলিল হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করা হয়। মামলার আরজিতে তার কাছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামি জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই বছরের ৮ মে তার সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মামলা হওয়ার বছরই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সম্প্রতি মহিপুর থানার ওসি তাকে ফোন করে আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানান এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার বলেন, আসামির নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপিতে আসামির মায়ের নাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকলে এ ধরনের ভুল হওয়ার সুযোগ ছিল না।
ওসি আরও বলেন, ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জামিনে সহায়তার জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।


