রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, স্থানীয় বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় স্টুডিওর ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম, আসবাব ও অন্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে স্টুডিওতে যান। পরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে লাইভে কথা বলেন।
সালমান বলেন, ‘আজকে আমাদের শেষ ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ট্রিপ বা ট্যুর যেটা, সেটা হচ্ছে। একটু আগে এখানে হামলা হয়েছিল। আর এই হামলার পেছনে একটু মজার কাহিনী আছে। আমি বলছি না কেন হাসতেছি। এই পুরা হামলায় আমাদের সম্পূর্ণ স্টুডিও ধ্বংস হয়ে গেছে, কাজেই দয়া করে এটা দেখুন। আর এই ভিডিওটা শুধুমাত্র, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের জন্য বানানো। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, বাংলাদেশে এখন এটা খুবই সাধারণ ঘটনা। আর সে কারণেই আমি হাসছি।’
‘এই পাশে চলে আসি আমরা একটু, আমাদের এই যে এই পাশে পিছনে ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো দেখাই। এটা বাংলাদেশের একমাত্র স্টুডিও যেখানে এমন এস্থেটিক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। এরকম কোনো স্টুডিও বাংলাদেশে ছিল না। তাই বাংলাদেশের আর্ট, সংস্কৃতি, বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই এমন একমাত্র স্টুডিও। এফডিসিতেও এগুলা নাই। যে জিনিসটা এখানে করা আছে, আর সেটা ধ্বংস হয়ে গেছে।
‘প্রশ্ন থাকতে পারে, আমি কেন এত শান্ত, আমি কেন ভেঙে পড়তেছি না। এই ভিডিওটা তাদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যারা তরুণ, নতুন কিছু করতে চায় বা যাদের বয়স আছে বা তারাও যারা জীবনে নতুন কিছু শুরু করতে চায়, তাদের জন্য একটা খুব বড় শিক্ষার ব্যাপার আছে এই ভিডিওতে।
‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যে দেশে যদি আপনি কিছু করতে চান এবং এইটা করার সময় যদি আপনি কারো তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনো ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনো দলকে অনুসরণ না করেন, আপনি যদি নিরাপত্তা টাকা-পয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন, আপনার সঙ্গে এটাই ঘটে। তাই যখন আমি সবসময় বলি যে পায়ের নিচের মাটি শক্ত না থাকলে বাংলাদেশে কিছু করা উচিত না, এটাকে আমি কিন্তু খুব অনুৎসাহিত করি। পায়ের নিচের মাটি আছে শক্ত বলে আমি হেসে ফেলে এই ভিডিও করে আজকে আমি বিদায় নিতে পারব।
‘যদি তোমাদের বেশিরভাগের সঙ্গে এগুলা হয়, তোমরা নিতে পারবা না। বিশ্বাস করো, আমি এত গুছিয়ে কথা বলতেছি কারণ আমি সেই পরিমাণ শক্তিশালী। বেশিরভাগ মানুষ এতো শক্ত না।
‘আমি দেখাই যে গত ১২ বছর, বা তারও বেশি, কয়েক যুগের স্বপ্ন আমি একটা ছোট্ট রুম থেকে এত বড়, বাংলাআদেশের সবচেয়ে বড় স্টুডিওতে আসি। আর তার ফলাফল এটা। বাংলাদেশে তুমি যদি স্বপ্ন দেখো, আর তোমার স্বপ্নকে যদি কাউকে শামিল না করো, তোমার সঙ্গে এটাই হয়।’
সালমান মুক্তাদির জানান, হামলার সৌভাগ্যবশত তার কর্মীরা নিরাপদ আছেন। তাদের কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। ভিডিওতে পুরো স্টুডিও ঘুরিয়ে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘রিসিপশন এখান দিয়ে আমরা যেখানে অতিথিদের নিয়ে লাইভ করতাম। এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি এমন। এই পাশে চেয়ারগুলা একটু আমরা দেখাই। সবকিছু ভেঙে চুরে একদম। আর কিছু বাকি নাই।
‘আবার বলছি, এসব কিছুই বস্তুগত। এটাকে দেখে কেউ ভাইবো না যে অনেক বড় জিনিস। তোমার সেই ধরনের মানসিকতা থাকতে হবে, আমি নিজেকে কখনো এর চেয়ে শক্তশালী অনুভব করিনি।
সালমান মুক্তাদির বলেন,‘আমার লাইফে যে স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকে, আমি ওটা পূরণ করছি। পূরণ করে ওটাকে আমি চালু করছি। মানুষ ভালোবেসেছে। কাজেই যারা এটাকে ভেঙেছো, এই বিএনপির লোকজন যারা করছে এটা, তোমাদের চাঁদাবাজি আমার স্বপন নিতে পারবে না।
‘তোমাদের চাঁদাবাজি তোমাদেরকে এই যে ফকিন্নি, মিসকিন রাখছে এইজন্য। কারণ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। তোমরা যত কিছু চুরি করে ফেলো, চাঁদাবাজি করে ফেলো, তোমরা এর থেকে বড় আর হইতে পারবা না। এটাই তোমাদের যোগ্যতা।
এসময় সালমানদের মুক্তাদিরের সঙ্গে থাকা কর্মী, ভাই-বোনেরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। আবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন,
‘তোমরা তো পুরা ইমোশনাল হয়ে মারা যাচ্ছ। রিলাক্স। কিচ্ছু হয়নি। আমি বারবার বুঝার চেষ্টা করছি। তোমরা সালমান মুক্তাদিরকে চিনো নাই। আমি এর থেকে বড় কিছু করব। তোমারা সবাই আমার সাথে থাকবে। কান্না না।
সালমান আরও বলেন ‘যারা বাংলাদেশে থাকতে চাও, তোমার যদি স্বপ্ন থাকে, তোমরা যদি আর্টসে থাকো, সংস্কৃতিতে থাকো, কিছু করতে চাও, এই যে এখানে ভাবছো, আমি ওদের সঙ্গে গেম খেলব… আমি একটা গেম এখনো খেলতে পারিনি নতুন টিভিতে। সেই টিভিও নিয়ে গেছে। নিতে পারেনি, ভেঙে দিয়ে গেছে। এটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি, তাইনা?
এসময় স্টুডিওর কাজে নিজের স্ত্রীর অবদানও তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আবারও বলতেছি, প্লিজ আপনারা এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আপনি এটা নিয়ে একদম টেনশন করেন না। আপনার জন্য এই ভিডিওটা না। বাংলাদেশি মানুষের জন্য এই ভিডিও।
‘আপনি যদি বাংলাদেশে থাকতে চান, দয়া করে চাটাচাটি করে চাঁদাবাজিকে একটু সাপোর্ট করবেন, যাতে এই ধরনের কাহিনী আপনার সঙ্গে না হয়। দুর্ভাগ্যবশত আমি বাংলাদেশের এই সংস্কৃতিকে সমর্থন করতে পারি না। দুই ট্রাক মানুষ আসছে, ওদের সঙ্গে আমি কখনোই কোনো রকমের সম্ভব না। আমার পক্ষে এটা ছাড় দেওয়া সম্ভব না। আমি করব না। কিন্ত আমার পক্ষে সম্ভব এটাকে চালিয়ে যাওয়া, সামনে এগিয়ে যাওয়া।’
মুক্তাদির বলেন ‘৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশি মানুষ এটার মধ্যে আটকায় থাকবে। এইজন্য আমি সবসময় বলি, আমার শক্তি আছে, আমার পাওয়ার আছে, আমার জ্ঞান আছে, আমার সাহস আছে। আমি যেকোনো সময় পার পেয়ে যাব। তোমরা যদি বাংলাদেশে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নাও, আবারও বলছি, এটাই বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের জন্য আমি না। তোমরা যদি বাংলাদেশে থাকতে চাও, আমার মতো যদি না হইতে পারো, এটা বাংলাদেশ ছাড়ার সময়।’
শেষ দিকে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। সালমান বলেন, ‘আর সালাহউদ্দিন আহমেদ, গ্রেট জব। আমি আপনার কাজকে ভালোবাসি। আপনাকে ধন্যবাদ। বিএনপি জোস কাজ করছে।’


