রাড্ডা ক্লিনিক: বিনামূল্যের টিকা ও মাতৃসেবা কেন্দ্র এখন ধ্বংসস্তূপ

রাড্ডা ক্লিনিক: বিনামূল্যের টিকা ও মাতৃসেবা কেন্দ্র এখন ধ্বংসস্তূপ
ছবি: তাসিফ আনোয়ার/টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ছিল ব্যস্ততম একটি টিকা ও মাতৃসেবা কেন্দ্র। বিনামূল্যে সেবাদানকারী সেই প্রতিষ্ঠান এখন ধ্বংসস্তূপ। এদিক সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে চিকিৎসাসামগ্রী।

রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য-পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের হামলা শুধু কোনো সম্পত্তি দখলের বিরোধের ঘটনা নয়। এই হামলার মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০০’র বেশি দরিদ্র মা, শিশু ও বয়স্ক রোগীর গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার পথ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ছবি: তাসিফ আনোয়ার/টাইমস

 

কেন্দ্রটি ধ্বংসের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে মিরপুর-১ এলাকায় প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে। সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভারী যন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

হামলাকারীরা কেন্দ্রের সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা, সরকারি নথিপত্র, টিকা সংরক্ষণের শীতলীকরণ যন্ত্র, জেনারেটর এবং ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন লুট করে নিয়ে যায় ও ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে কয়েক দশকের মাতৃ ও শিশুসেবা কার্যক্রম এক রাতেই থেমে গেছে।

ছবি: তাসিফ আনোয়ার/টাইমস

 

মিরপুর-১, বাউনিয়াবাদ, ভাষানটেক ও আশপাশের বস্তি এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এ ক্ষতি পূরণ করা কঠিন। কারণ এসব এলাকার দরিদ্র বাসিন্দারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

আরও পড়ুন

ছবি: তাসিফ আনোয়ার/টাইমস

 

১৯৭৪ সালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করে সুইডিশ সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। ১৯৭৬ সাল থেকে সরকারি অংশীদারত্বে পরিচালিত হয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানটি গর্ভকালীন সেবা, শিশুদের টিকাদান, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছিল।

কেন্দ্রটির মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে। সরকারি বরাদ্দ দেওয়া ১০ কাঠার জায়গাটি একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ছবি: তাসিফ আনোয়ার/টাইমস

 

এখন সেবার আশায় আসা অসহায় মা ও শিশুরা কেন্দ্রের সামনে এসে দেখছেন তালাবদ্ধ ফটক, ছেঁড়া নথিপত্র এবং কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ।

শুধু স্থাপনা ধ্বংস নয়, এই হামলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। পাঁচ দশকের একটি মানবিক প্রতিষ্ঠানকে অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, জমি দখলের অপচেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছবি: তাসিফ আনোয়ার/টাইমস

 

কেন্দ্রটি ধ্বংসের পর বিকল্প হিসেবে একটি অস্থায়ী টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে মিরপুরের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষজন বলছেন, এই জমি দখলের ঘটনায় তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার হঠাৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad