চবিতে এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

চবিতে এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথক ঘটনায় এক শিক্ষকসহ তিনজনকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরমধ্যে এক শিক্ষককে সাময়িক এবং দুই শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে স্থায়ী ও এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত হয়েছে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন । এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে (পিলু) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে জুলাই আন্দোলন নিয়ে তিনি একটি পোস্ট দেন। পরে পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়া পোস্টটিতে আন্দোলনকে নিয়ে অশ্লীল ও কটাক্ষমূলক বক্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর গত ১২ জুলাই উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে বিষয়টি অধিকতর তদন্তে নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিন্ডিকেট সভায় এ দুই সিদ্ধান্তও অনুমোদন করা হয়।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলীর গায়ে হাত তোলার ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমিকে স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। আদালত তার স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আফসানা এনায়েত এমি নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আদালতের দেওয়া ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মামলা পরিচালনায় সময় গড়ানোর কারণে আদালতের নির্ধারিত শাস্তি এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে স্থায়ী এবং একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।’

তবে নিজের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, ‘এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাইনি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর