চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাত আলম ও আজিজ বসের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময় হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গোষ্ঠীটির সহযোগী দিলদার হোসেন (৩৭) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে ডাকাত আলম, আজিজ বসসহ পাঁচজন পালিয়ে গেছেন।
বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে উপজেলার দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ সুপার জানান, রাউজানে আগে থেকেই একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল। রায়হান বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ায় সম্প্রতি তাদের তৎপরতা কমে যায়। এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ডাকাত আলম ও আজিজ বসের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী।
পুলিশ জানায়, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২) ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২) দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে তারা হুমকি দেন। পরে তার বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানান বক্কর চৌধুরী।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাউজান থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে ডাকাত আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ডাকাত আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫) পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানের সময় শর্টগান থেকে ১৫ রাউন্ড ও পিস্তল থেকে দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে পুলিশের ১২ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, খোরশেদ আলম, বায়েজিদ মৃধা, জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও রবিউল হোসেন রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বাড়িটি পাহাড়ের পাশে হওয়ায় অভিযানের সময় কয়েকজন পালিয়ে যান। পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় দিলদার হোসেন পালাতে পারেননি। তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে দিলদারের হেফাজত ও দেখানো মতে দুটি এলজি, ১১৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসার কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার পাউচ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি দোনলা বন্দুক ও একটি একনলা কাটা বন্দুক রয়েছে।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ১১৯ রাউন্ড গুলি চায়না রাইফেলের। এসব গুলি সাধারণত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার করে।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিলদার গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে গোষ্ঠীটির অপরাধ, অস্ত্রের উৎস ও পলাতক সদস্যদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একই ইউনিয়নের কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসার কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।


