গাজার মতো পশ্চিম তীরেও ‘যুদ্ধের’ ডাক ইসরায়েলি মন্ত্রীর

গাজার মতো পশ্চিম তীরেও ‘যুদ্ধের’ ডাক ইসরায়েলি মন্ত্রীর
পশ্চিম তীরে বসতি এলাকার মানচিত্র পর্যালোচনা করছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। ফাইল ছবি: এএফপি/বাসস
Advertisement
Advertisement

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দক্ষিণ লেবানন ও গাজার কিছু এলাকা দখলের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে যুদ্ধ করা উচিত এবং গাজায় যা করা হয়েছে তা সেখানেও করা উচিত।

রোববার এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মোটরিচ বলেন, ‘গাজায় অন্তত হলুদ রেখা পর্যন্ত এবং লেবাননে লিতানি নদী পর্যন্ত দখল করা উচিত। কারণ যুদ্ধ শুরুর সময় যে সীমানা ছিল, যুদ্ধ শেষেও যদি সেই সীমানাই থাকে, তাহলে শত্রুকে আবার যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে কীভাবে ঠেকানো যাবে?’

গাজায় সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা বোঝাতে ‘হলুদ রেখা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর ওই সংঘাত শুরু হয়।

স্মোটরিচ আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, জুদিয়া ও সামারিয়ায় আমাদের যুদ্ধে যাওয়া দরকার। সন্ত্রাসকে সমর্থন করা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে।’ পশ্চিম তীরকে বোঝাতে তিনি বাইবেলের পুরোনো নাম জুদিয়া ও সামারিয়া ব্যবহার করেন।

স্মোটরিচ এমন একটি কট্টর ডানপন্থী দলের নেতা, যারা পুরো পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।

আরও পড়ুন

ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটের পাশাপাশি বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতাও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা। ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন।

এদিকে পশ্চিম তীরে যুদ্ধের আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তার বক্তব্য উত্তেজনা বাড়ানো, দখল এবং মানুষকে উচ্ছেদের সরাসরি আহ্বান। এর লক্ষ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে নষ্ট করা।’

গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা বা বসতিস্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ১১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা বা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। এসব হামলার ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা খুব সামান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতাকে নেতানিয়াহু গুরুত্বহীন করে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, এসব ঘটনা ‘মুষ্টিমেয় দাঙ্গাবাজের’ কাজ।

পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করেন। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ। প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস করা পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় এসব বসতি গড়ে উঠেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad