খাগড়াছড়িতে অবরোধ প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুতই ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম। সহিংসতার ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রশানক বলেন, ‘তাদের (আন্দোলনকারী) দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য অবরোধ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।’
গুইমারায় সংগঠিত সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মঙ্গলবার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যে আটটি দাবি তারা দিয়েছে তার সাতটি প্রক্রিয়াধীন। আলোচনার টেবিলেই সমাধান হবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবরোধের ভেতর রোববার পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, বাঙালি বসতি স্থাপনকারী (সেটেলার) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় গুলিবিনিময়ে অন্তত তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন এবং ১৩ সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
ওইদিন ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে গুইমারার রামসু বাজারে দুপুরে দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সহিংসতার পর, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ফেসবুক পোস্টে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে ‘অনির্দিষ্টকালের’ অবরোধ ডেকেছে। পাহাড়ি স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে এর আগে শনিবার অবরোধ চলছিল। সে দিনও কয়েক দফা সংঘাত হয়।


