গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু পরিবহনে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে ২৫টি ওয়াগনে ৪০০ গরু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় প্রথম ট্রেন।
এবার জামালপুর জেলা থেকে ৩টি ট্রেনের ৭৫ টি ওয়াগনে ১ হাজার ২০০ টি গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। এর মধ্যে দুইটি ট্রেন শুক্রবার আর শেষ ট্রেনটি যাবে শনিবার বিকালে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রেনে পশু পরিবহনে খরচ কমার পাশাপাশি যানজটের ভোগান্তি ও দূর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যাবে।
জামালপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়াগনের ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে আট হাজার টাকা। প্রতিটি ওয়াগনে নেয়া যাবে ১৬টি গরু। আর সুবিধা বেশি পাওয়ায় গরু পরিবহনে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে।
গরু ব্যবসায়ী জাবের আহাম্মেদ জানান এক ট্রাক গরু নিয়ে গেলে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ট্রাকে ১৫-২০ টা গরু নেয়া যায়। অন্যদিকে ট্রেনে ১৬টি গরু নিয়ে গেলে ৮০০০ টাকা খরচ হয়। প্রতিটি গরুতে খরচ মাত্র ৫০০ টাকা।
খামারি শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রাকে গরু নিয়ে গেলে ভাড়া বেশি লাগে। ঝাঁকি লাগে, দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ঘাটে ঘাটে চাঁদা দেওয়া লাগে। ট্রেনে গরু নিয়ে গেলে এসব ঝামেলা হয় না ।
গরু ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, ‘আমি প্রতিবছরই গরু নিয়ে যাই। সব গরু বিক্রি হয়ে যায়। এবারো ৮টা গরু নিয়ে যাইতাছি। জামালপুরের চেয়ে ঢাকায় গরুর দাম ভালো পাওয়া যায়। প্রতি গরুতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি পাওয়া যায়। তাই আমরা গরু কষ্ট করে ঢাকা নিয়ে যাই।’
এদিকে অবিক্রিত গরু নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরার জন্য ফিরতি ট্রেনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
গরু ব্যবসায়ী সেলিম মণ্ডল জানান, ঢাকাতে সব গরু সবসময় বিক্রি হয় না। তখন চাঁদ রাতে কম দামে গরু বিক্রি করতে হয়।
ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, ‘ট্রেনে গরু নেয়ার জন্য খামার ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ট্রেন আসার খবরেই সব ওয়াগন বুক হয়ে গেছে। যদি আরও ট্রেন দেয়া হতো তাহলে সেসব ট্রেনও বুক হয়ে যেতো। এই বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো। যাতে পরের বার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো যায়।’
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি আর কম খরচে পশু পরিবহনের জন্য ২০২১ সাল থেকে ঈদুল আজহায় ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।


