টাঙ্গাইলে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবারকে স্মার্ট সেবার আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষকদের হাতে কার্ড ও ‘প্রকৃতির বন্ধু’ গাছ তুলে দিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে–এই নীতিতে সরকার কাজ করছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পাওয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষি ঋণসহ মোট ১০ ধরনের সরকারি সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবেন।’
এটি কৃষকের আত্মনির্ভরতার নতুন পথ তৈরি করবে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেচ সুবিধা ও কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করল সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১০টি জেলায় প্রি-পাইলটিং শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবারকে এই সমন্বিত ডেটাবেজের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে এই ডেটাবেজ তৈরি করছে, যা কৃষি সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া ব্লকের ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষককে প্রথম পর্যায়ে কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন। এ ছাড়া, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলা পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা পুলিশ।
এর আগে, গত ৩১ জানুয়ারি তারেক রহমান টাঙ্গাইলে একটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন।


