ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার বিকালে ভারতের পেট্রাপোল নো-ম্যানস ল্যান্ডে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের উপস্থিতিতে লাশগুলো বিজিবি, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া ও হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের শিশুসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া সাভারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদের (৩৭) মরদেহও এই সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতজন বাংলাদেশির মধ্যে অপর একজন এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ ভারতে অবস্থানরত স্বজনদের সিদ্ধান্তে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানেই সৎকার করা হয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান জানান, ভারতে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো বেনাপোলে পৌঁছানোর পর দ্রুততার সঙ্গে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
সীমান্তে মরদেহ হস্তান্তরের সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় বেনাপোল নো-ম্যানস ল্যান্ডের আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট বুধবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দুই ভারতীয় ও সাত বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়।


