ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দুই শীর্ষ সংগঠক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক থাকা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলটির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে।
শনিবার বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় অজিঙ্ক্যকে বিক্ষোভের চালকের আসনে রাখার কথা জানান অভিজিৎ দীপকে।
বিক্ষোভে যোগ দিতে সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের ভেতর থেকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ককরোচ পার্টির শীর্ষ তিন নেতাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ চলমান রাখার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
পরে দুপুর ২টার দিকে অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে অভিজিৎ দীপকের পূর্ব ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে বিক্ষোভে অজিঙ্ক্য শিন্ডের ভূমিকা জানায় সিজেপি।
এর আগে এক পোস্টে সিজেপি দাবি করে, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
IMPORTANT
Until Abhijeet Dipke, Saurav Das and Ashutosh Ranka are in detention, CJP’s Organization In-Charge Ajinkya Shinde will lead this protest at Jantar Mantar.
Abhijeet had pre-recorded this video last night in anticipation of a potential arrest.
@AjinkyaCJP
https://t.co/WSQ69mKfTV— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback)
October 10, 2026
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে ভারতজুড়ে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। সংগঠনের নেতাকর্মী ও আন্দলোনকারীদের পাশপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রপন্থী মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সারসহ ১২শর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে আছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, ককরোচ জনতা পার্টির নেতা রত্না সিং, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীসহ আরও অনেক পরিচিত মুখ।
এদিকে ককরোচদের বিক্ষোভকে সামনে রেখে রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই অভিযোগ এনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও।
এর জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ও রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে আশঙ্কা করছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ৩৭ দফার বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএএফপি’স) প্রায় ২৩ হাজার সদস্য এবং দিল্লি পুলিশের আরও পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিক্ষোভের কারণে রেল চলাচলেও বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, এমন ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজধানীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় এলাকার মোট ৪৫টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। এর আগে রাজধানীর প্রায় ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি মেট্রোরেল কো-অপারশন। তবে পরে তা ৪৫টিতে কমিয়ে আনা হয়।


