সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খলিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী ও ১৬ জন ওমরাহ যাত্রী।
আহতদের মধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বাকিরা এখনো রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, টানা তৃতীয় দিনের মতো সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরান সমর্থিত হুথিরা।
এ পর্যন্ত সৌদি আরবে চার হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রিয়াদকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলার আগে কেন জনসাধারণকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সৌদি সরকার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সবশেষ হামলায় রিয়াদে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য এই হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এসব হামলার কিছুক্ষণ আগেই তাদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, রিয়াদের পাশাপয়াশি সোমবার ইয়েমেন সীমান্তের কাছে খামিস মুশাইতের সামরিক বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন তারা। কেবল সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে না জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে অন্য শহরে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে আবারও আহ্বান জানান। এমনকি যাত্রীদেরও সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোতে অবস্থান থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন তিনি।
রিয়াদে হুথি হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর- এমন দাবি করে সারি জানান, এসব বিমানবন্দর এখন ‘নিরাপদ নয়’।

অবশ্য সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, সোমবার রিয়াদ এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এরইমধ্যে বন্ধ রয়েছে হুথি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
ওই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোমবার জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হুথিরা রিয়াদের দিকে একটি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, রিয়াদের বাদশা খলিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার রাতের বোমা হামলায় প্রাথমিকভাবে দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়। ওই হামলায় আহত হন তিন শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার বিকালে ফের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়। ওই হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় এলাকায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সম্প্রতি হুথি ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টার্মিনাল ৩ ও ৪-এ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
সৌদি সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও দুজন বাংলাদেশি, একজন ফিলিস্তিনি, একজন মার্কিন, একজন মিসরীয়, একজন জর্ডানি, একজন সিরীয় ও একজন সুদানি রয়েছেন।


