মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শনিবার ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। এতে দুই বছর পর ঘরের মাঠে টেস্টে হারল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে টানা তৃতীয় টেস্টেও পরাজিত হলো টাইগাররা।
জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখেন ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। উদ্বোধনী জুটিতে ১২১ রান যোগ করেন তারা। ক্যারিয়ারসেরা ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন কিং। ৪৯ রান করে ফেরেন ক্যাম্পবেল। শরিফুল ইসলাম তাকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন।
১১৫ বলের ইনিংসে ১০টি চার ও একটি ছক্কা মারেন কিং। শেষ দিকে কাভেম হজের ২৭ বলে অপরাজিত ৩১ রানে জয় নিশ্চিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ আর কোনো উইকেট নিতে পারেননি। এর মধ্যে দুবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান কিং।
প্রথমবার শরিফুল ইসলামের বলে দ্বিতীয় স্লিপে কিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্যাচ ধরতে গিয়ে তার আঙুলেও চোট লাগে। পরে তাইজুলের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে ৭১ রানে আবারও জীবন পান কিং। লং-অফে তার ক্যাচ নিতে পারেননি বদলি ফিল্ডার এবাদত হোসেন।
ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন শরিফুল। পরে হাসান মাহমুদের বাউন্সারে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই দুটি উইকেটই নিতে পেরেছে বাংলাদেশ।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। চতুর্থ দিনের খেলা শুরুতে ৬ উইকেটে ৭৯ রান ছিল স্বাগতিকদের। লিড ছিল ১০৬ রানের। বাকি চার উইকেটে ৬৩ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। ৯১ বলের ইনিংসে চারটি চার মারেন তিনি। ৮৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর রস্টন চেজের বলে লং-অনে জশুয়া বিশপের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম। টেস্টে এটি তার প্রথম অর্ধশতক।
মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে খেলতে নেমে ৩৪ বলে ২২ রান করেন জাকের আলী। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। নাঈমের সঙ্গে ৩১ রানের জুটি গড়েন তিনি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন জাকের। ক্যাচটি নেন চেজ।
হাসান মাহমুদ ৮ রান করে ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন। একই স্কোরে থামেন তাইজুল ইসলামও। তাকে এলবিডব্লিউ করেন রস্টন চেজ। এই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন চেজ।
তৃতীয় দিনেই বড় ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ৩ উইকেটে ২৮ রান তোলার পর ছয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তানজিদ হাসান শূন্য রানে, শাদমান ইসলাম ১৩ রানে ও তাওহীদ হৃদয় শূন্য রানে ফেরেন। তিনজনকেই আউট করেন চেজ।
নাজমুল হোসেন শান্ত ১০ রান করে চেজের শিকার হন। পরে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজকে ফেরান ওয়ারিকান।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ২৪৫ রানে। এতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। চার উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন নাঈম হাসান। এর মধ্যে টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেটও তুলে নেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে শতক করেছিলেন শাদমান ইসলাম।


