মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত গাজার শিশুদের সহায়তায় দেড় কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী। ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, অপুষ্টি ও অব্যাহত সহিংসতার শিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের জরুরি চিকিৎসার জন্য এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে হামজা লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’
লন্ডনে আয়োজিত এই অর্থ সংগ্রহ অভিযানে সহযোগিতার জন্য নুজুম স্পোর্টসকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ ধন্যবাদ নুজুম স্পোর্টসকে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা যে অসংখ্য ঘণ্টা সময় দিয়েছে এবং নিরলস পরিশ্রম করেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
সংগৃহীত এই পুরো অর্থ গাজার শিশুদের জীবন রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা ‘চিলড্রেন নট নাম্বার্স’-এর কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে হামজা বলেন, ‘এই শিশুদের অনেকেরই বেঁচে থাকার একমাত্র আশা হলো চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। যেসব শিশুর জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর প্রয়োজন, তাদের সেই ব্যবস্থা করতেই সংগৃহীত অর্থের পুরোটা ব্যয় করা হবে।’
সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বিনয় প্রকাশ করে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লেখেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করতে পেরেছি, তাতে আমি বিনীত ও কৃতজ্ঞ। তবে এত মানুষের অসীম দুর্ভোগের তুলনায় আমাদের এই অবদান খুবই সামান্য। এখনো অনেক কিছু করার বাকি। তবে প্রতিটি প্রচেষ্টা, তা যত ছোটই হোক না কেন, পরিবর্তন আনতে পারে।’ শেষে তিনি ফিলিস্তিনের মানুষের কষ্ট লাঘব ও স্থায়ী শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।
ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ২৯ বছর বয়সী হামজা বর্তমানে ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলার পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পান তিনি এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ভূমিকা রেখে আসছেন এই তারকা ফুটবলার।


