ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার সময় আবারও বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হয় রিটার্ন জমার সময়।
রোববার এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জরিমানা ছাড়াই দাখিলের সময় পাবেন করদাতারা।
আয়কর আইন অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয়। গত ২৩ নভেম্বর সেই সময় এক মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে এনবিআর। এবার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও এক মাস সময় বাড়ানো হলো।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি করবছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য ৪২ লাখের বেশি করদাতা নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে শনিবার পর্যন্ত ২৮ লাখ ৮৫ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। অর্থাৎ এখনও প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেননি।
এনবিআর বলছে, বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১৫ হাজারের বেশি করদাতা রিটার্ন জমার জন্য নিবন্ধন করছেন।
এ বছর থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। রিটার্ন জমার সময় কোনও কাগজপত্র বা দলিলাদি জমা দিতে হচ্ছে না।
শুধু এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হচ্ছে। তাই অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে এনবিআর।
এ বছর করবর্ষের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল ও বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে। চাইলে ই-রিটার্নও দাখিল করতে পারবেন তারা।
করদাতার তরফে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও এ বছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশির ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তার পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি তথ্য দিয়ে বিদেশে বসেই ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে।


