জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতির বিষয়টি স্পিকারের নজরে এনেছেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
সোমবার সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মিলন বলেন, মন্ত্রীরা অধিবেশনে উপস্থিত না থাকায় অনেক সংসদ সদস্য নিজেদের এলাকার সমস্যা, জনভোগান্তি ও জরুরি বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ পান না।
এ সময় বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং মন্ত্রীদের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তত অর্থমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত রয়েছেন–এটি একটি ইতিবাচক দিক।
এ সময় সরকারি দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা অবশ্যই জরুরি। তবে যেহেতু এটি বাজেট অধিবেশন, তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী উপস্থিত রয়েছেন। কারণ, এই অধিবেশনে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব অর্থমন্ত্রীকেই দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কাজে অনেক মন্ত্রী দেশের বাইরে রয়েছেন।
এ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, বিরোধী দলের সারিতেও বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতা উপস্থিত নেই। জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা বা উপনেতা অনুপস্থিত থাকাটা এক বিষয়, কিন্তু মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা অনেক বেশি জরুরি।
অধিবেশন কক্ষের উপস্থিতি চিত্রেও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সোমবার বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত সরকারি দলের সামনের সারির ১৯টি আসনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন। সিনিয়র মন্ত্রীদের মধ্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে দেখা যায়।
দ্বিতীয় সারির ২৪টি আসনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১১ জন এবং তৃতীয় সারির ২৬টি আসনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১১ জন। এদিন তুলনামূলকভাবে নারী সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।


