চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (৪৪) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ সাইফুল নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার ১০ নম্বর জাহাজমারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর হেয়ার মোল্লাবাজার পন্ডিতের বাড়ির বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট কাঁচাবাজার এলাকার ২ নম্বর গলিতে ফারুক মিয়ার ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি উত্তর বিভাগের ‘টিম ৩১’-এর সদস্যরা গত ১৮ এপ্রিল বিশেষ অভিযান চালান। বায়েজিদ বোস্তামী থানার আতুরার ডিপু কামারাবাদ মোড় এলাকায় ‘পপুলার মেডিকেল হল’ ফার্মেসির সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় একটি যাত্রীবাহী ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সংকেত দেওয়া হয়। অটোরিকশাটি থামার সাথে সাথে এক যাত্রী নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবির আভিযানিক দল ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনের সামনে তল্লাসি চালিয়ে ওই সন্ত্রাসীর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রের সাথে একটি ম্যাগজিন পাওয়া গেলেও কোনো গুলি পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুলের বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক ও চুরিসহ অন্তত পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছেন যে, উদ্ধার করা অস্ত্রটি ব্যবহার করে তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিয়াতলি, ওয়াজেরিয়ার কোয়াইশ, অক্সিজেন, বালুছড়া, হামজারবাগ ও মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।
সাইফুলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন করা হবে এবং অস্ত্রটির উৎস সন্ধানে কাজ চলছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ আরও জানান, নগরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। গত দুই-তিন মাসে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া জামিনে বেরিয়ে আসা মোবারক হোসেন ইমনসহ অন্য সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের ওপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাঁচলাইশ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


