দেশে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু ছিল নিশ্চিত হাম রোগী। বাকি ছয় শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে
বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৬ জনে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ১৭২ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ হাজার ১৯১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৯২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ দুইজন নিশ্চিত হাম রোগী এবং দুইজন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে সন্দেহভাজন হিসেবে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সিলেট বিভাগে মোট দুইজনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩৫২ জনে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ১২৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আক্রান্তের হিসাবে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৫৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৮১ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৩ হাজার ৯৫৪ জন এবং চট্টগ্রামে ২ হাজার ৬৭০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ‘জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’ চলমান রয়েছে। ৫ ও ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বর্তমানে ৩০টি উপজেলা, ১৩টি পৌরসভা এবং চারটি সিটি করপোরেশনে পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সারা দেশে ১১ লাখ ৩১ হাজার ১২৮ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৭ শতাংশ। বিভাগীয় হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ১২৩ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া চারটি সিটি করপোরেশনে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৯ হাজার ৪৪৮ জন টিকা নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, রংপুর ও সিলেট বিভাগসহ দেশের অবশিষ্ট এলাকাগুলোতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর, র্যাশ, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


