যশোরে এলপিজি’র অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

যশোরে এলপিজি’র অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই যশোরের বাজারে দেখা দিয়েছে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট। সরকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিলেও যশোরের বাজারে সেই দামে গ্যাস মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

বিক্রেতারা জানান, বাজারে গ্যাসের সরবরাহ বর্তমানে অনেক কম। ডিলার পয়েন্ট থেকেই ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকদের অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

সরকার গত ২ এপ্রিল ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু যশোরের বাজারে এই দামে গ্যাস পাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, কোম্পানিভেদে প্রতি সিলিন্ডারের জন্য তাদের এক হাজার ৯৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। শহরের বাড়িগুলোতে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে গ্যাস কিনছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক রেজওয়ান হক বাপ্পি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হুট করে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। গ্যাস ছাড়া রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে।

আরেক গ্রাহক আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকেন। সেখানে রান্নার জন্য গ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। সবার পক্ষে বিদ্যুতের চুলা কেনার সামর্থ্য থাকে না। তাই বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

আরও পড়ুন

গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত দুই দিন ধরে তারা চাহিদার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ পাচ্ছেন। সোহেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সোহেল হোসেন বলেন, গ্যাসের সমস্যা অনেক দীর্ঘদিনের। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখন আবারও সংকট দেখা দিয়েছে। তার দোকানে ১০০ পিস সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও তিনি সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ১৫ থেকে ২০ পিস।

ডিলারদের দাবি, কোম্পানিগুলো নির্ধারিত দাম না মানায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। ফিরোজ এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মহিদুল হাসনাত জানান, সরকার একটি দাম ঠিক করে দিলেও কোম্পানিগুলো সেই দামে মাল দিচ্ছে না। কোম্পানি যে দাম ধরছে তাদের সেই দামেই কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে তারা কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না।

যশোর এলপিজি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, বাজারে চাহিদামত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলো সরবরাহ বাড়ালে খুচরা বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হবে। এছাড়া একেক কোম্পানি একেক রকম দাম রাখছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়াকে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। যশোর জেলা এলপিজি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যে কেউ যাতে অতিরিক্ত মজুত করতে না পারে সেদিকে তারা খেয়াল রাখছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকরা শুল্ক কমানোসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad