মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও সরকার দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হলেও সরকার থেমে নেই। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী পরিচালিত খাল খনন কর্মসূচি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য চাষ এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক খাল দখলদারদের কবলে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, দখলদাররা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বামনসুন্দর খালের ওলিপুল থেকে বনতালী জলদাস পাড়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার অংশের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করবে।
পরে মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত মলিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিএডিসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ফলে ৫৬৪ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। আগে যেখানে কৃষকরা কেবল বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে আমন চাষ করত, এখন খালটি সংস্কারের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষ সম্ভব হবে। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রতি কিলোমিটার খাল খননের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মিরসরাই উপজেলায় ইতোমধ্যে ৫২ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে ৫ হাজার হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে এবং ওই এলাকাগুলো সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে।


