নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চার বিশিষ্ট নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চারজনের হাতে পদক তুলে দেন তিনি।
নারী শিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস ও নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা এ পদক অর্জন করেন।
৯ ডিসেম্বর নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়ার প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সমাজে বিশেষ অবদান রাখায় প্রতিবছর বিশিষ্ট নারীদের হাতে রোকেয়া পদক তুলে দেওয়া হয়।
দিবসটি ঘিরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নের প্রধান উপায় ছিল শিক্ষা। এই উপলব্ধি থেকেই বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার প্রসারে সাহসিকতার সঙ্গে পথ দেখিয়েছেন। বেগম রোকেয়ার হাত ধরে যে নারী উন্নয়নের পথচলা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার।
এ সময় নারী অধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় যে নারীরা রোকেয়া পদক পেয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা।
১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নারীজাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া। সে সময় মুসলিম সমাজে মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না থাকলেও ভাইয়ের উৎসাহে উর্দু, বাংলা, আরবি ও ফারসি শেখেন তিনি।
বিহারের ভাগলপুরে সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ের পর স্বামীর উৎসাহে বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষা বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


