প্রায় দেড় বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের এই শিক্ষার্থী আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে অনিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন জমা দেন। তবে শুনানিকালে আসামি উপস্থিত ছিলেন না।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, রাশেদ কামাল অনিক নামে এক আসামির আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন জমা পড়ে। তবে শুনানিকালে ডেকেও আইনজীবী ও আসামিকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে রাশেদ কামাল অনিকের আইনজীবী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা দেখিয়ে তিনি কল কেটে দেন। আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে গত মঙ্গলবার ২৮ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পলাতকদের মধ্যে রাশেদ কামাল অনিকও রয়েছেন।
২০২৪ সালের গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান।
অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দেয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


