সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নে ১৮০ দিনের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্পিত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দপ্তর পরিবর্তন এমনকি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
গত এক সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একাধিক মন্ত্রিপরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রধানমন্ত্রী এই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কেউ যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল দেখাতে না পারেন, তবে ছয় মাস পর প্রধানমন্ত্রী বিকল্প বা ‘ভিন্ন চিন্তা’ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
প্রতিটি কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বা মনিটরিং করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হওয়ায় অনেকের ওপর একাধিক মন্ত্রণালয়ের ভার রয়েছে। কাজের চাপ ও বাস্তবতা বিবেচনা করে আগামীতে দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে, যেখানে মেধা ও কর্মদক্ষতাই হবে প্রধান মাপকাঠি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর আস্থা রেখে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সংবিধান, আইন ও রুল অব বিজনেস অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। সময়মতো কাজ শেষ করতে পারলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, অন্যথায় জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা কঠোরভাবে মনিটরিং করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ‘ক্লিন গভর্নমেন্ট’ বা স্বচ্ছ সরকার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা চালুর বিষয়টি বর্তমানে অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
এসব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।


