গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
তিনি স্বীকার করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক ‘মসৃণ’ ছিল না। তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে ধীর করে দেওয়ার একাধিক কারণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।’
তার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সম্পর্কের গতি ফিরিয়ে আনতে এবং একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগকে জটিল করে তুলেছে এবং বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তার মতে, বিরোধের অন্যতম কারণ হলো ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তাদের দেশের মাটি থেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই ঘটনাকে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখেছে।
ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানান উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের কথা জানতে চাইলে তিনি ধারণার ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শুধু এটুকুই জানান, দাপ্তরিকভাবে বাংলাদেশের অনুরোধের উত্তর এখনো মেলেনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জাতীয় নির্বাচন এক সপ্তাহ আগে তৌহিদ হোসেন স্বীকার করে বলেন যে, কোনো কোনো পর্যবেক্ষক এখনো ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েকদিন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে।
বিশ্বে ‘নিখুঁত’ নির্বাচন বিরল উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, তার কাছে সাফল্যের মাপকাঠি হলো নির্বাচনের ফলাফলে জনগণের ইচ্ছার প্রকৃত প্রতিফলন হলো কি না।
ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলেও নিজের আশার কথা জানান তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু বিদেশি কূটনীতিক এবং পশ্চিমা প্রতিনিধি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে দলটির সম্পৃক্ততা নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তবে দলটিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাইরে থেকে কোনো চাপ ছিল না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা
তৌহিদ হোসেন বর্তমান প্রশাসনকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন, যার কাজ হলো একটি ক্রান্তিকালে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করা।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পরবর্তী সরকার গত ১৮ মাসে প্রবর্তিত ইতিবাচক সংস্কারগুলো বিশেষ করে গণমাধ্যমের সমালোচনার সুযোগ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে। সেইসঙ্গে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সীমাবদ্ধতাগুলোও কাটিয়ে উঠবে।


