পদত্যাগ করছেন না ডাকসুর সর্বমিত্র চাকমা

পদত্যাগ করছেন না ডাকসুর সর্বমিত্র চাকমা
সর্বমিত্র চাকমা। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েও সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।

শনিবার বিকালে তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এখনো শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার পদত্যাগ ‘চায় না’। তাদের মতে, এভাবে পদত্যাগ করা হলে তা ‘গণবিরোধী’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণার’ শামিল হবে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে বলেছেন বিরোধী পক্ষের কথায় কান না দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র পদত্যাগকে সমর্থন করে না। তবে বিষয়টি গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় উল্লিখিত আছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার স্পষ্ট জানা নেই।’

এদিকে ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১২(খ) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য বা পদাধিকারী পদত্যাগ করলে, মৃত্যুবরণ করলে বা অপসারিত হলে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, যদি কেউ নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করতে চান তাহলে তার কোনো বাধা নেই।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সর্বমিত্র চাকমা টাইমসকে জানিয়েছিলেন, তিনি দুই দিনের মধ্যে পদত্যাগ করবেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, কিছু অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেই পদত্যাগ করবেন।

আরও পড়ুন

গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক ঘটনায় সমালোচনায় পড়েন তিনি।

গত নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় গভীর রাতে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও বাগছাসের (বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তি) সঙ্গে তার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শিশুদের কান ধরে ‘ওঠবস’ করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে স্টাম্প নিয়ে কয়েকজন শিশুকে কানে ধরে ওঠবস করাচ্ছেন।

সমালোচনার মুখে সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান সর্বমিত্র চাকমা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ব্যক্তিগত অভিমান’ বা ‘প্ররোচনায়’ নয়, বরং ‘কাজের পরিবেশ’ ও ‘মানসিক চাপের’ কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ক্যাম্পাসে চুরি, ছিনতাই ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি, যদিও স্বীকার করেন তার পদ্ধতি ভুল ছিল।

তবে সর্ব মিত্রের পদত্যাগের পোস্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, সর্বমিত্র এমন কিছু করেনি যে, তার পরিত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া সর্ব মিত্রের পদত্যাগের ঘোষণাকে সম্পূর্ণ ‘অভিমান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্ব মিত্র চাকমাকে শোকজ করেছে। প্রক্টরের সহকারী সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

শোকজ বিষয়ে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, নোটিশ তিনি পেয়েছেন, তবে আপাতত জবাব দেবেন না। আগে প্রশাসনের কাছে ক্যাম্পাসে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা চান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad