শেষ হলো মাসব্যাপী চলা ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। শনিবার পূর্বাচল উপশহরে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের মেলায় প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২২৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। প্রতি বছর এই মেলা আয়োজন করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এবারের মেলা দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা ও অবদানের স্বীকৃতি জানান। স্থাপত্য সৌন্দর্য, পণ্যের মান এবং ক্রেতা সেবার ওপর ভিত্তি করে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তিনি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের আসরে বাংলাদেশসহ মোট ৭টি দেশের ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করেছে। মেলা শেষে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২২৪ কোটি টাকারও বেশি সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতি বিদেশী ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে এই রপ্তানি আদেশগুলো এসেছে।
অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি এবারের মেলা দর্শনার্থীদের বিনোদন ও যাতায়াতের সুবিধায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। অনলাইনে টিকিট ও স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি বিআরটিসি ও পাঠাও সার্ভিসের বিশেষ সুবিধা ছিল লক্ষণীয়। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ দর্শনার্থীদের মাঝে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করে। প্রবীণদের জন্য সিনিয়র সিটিজেন কর্নার এবং মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা কেন্দ্র মেলার পরিবেশকে আরও জনবান্ধব করে তোলে।
মেলার পার্শ্ব ইভেন্ট হিসেবে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আটটি সেমিনার এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


