কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আধিপত্যবাদ মানব না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না, একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই ‘
শনিবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোট নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক প্রমুখ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট যদি সরকার গঠন করে তাহলে সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার প্রাপ্য সম্মান পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী কাজে লাগাবেন কি না সেটা চিন্তা করবেন।’
দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলব না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটে, সেখানেই তোমরা সাহসী যুবকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ো, যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছ।’
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এই বাংলাদেশ যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের প্রার্থীদের ৬২ শতাংশই যুবক। আমরা কাউকে বেকার ভাতা দেব না, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই। এ দেশে আমরা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করব। সকল ধর্মের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনভাবে নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনব।’
জনসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। বক্তব্যে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোর দেন এবং বিএনপিকে শতর্ক করে বলেন, ২৪-এর আন্দোলনকে ভুলে গেলে চলবে না।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসম, আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
পরে দুপুরে কুমিল্লার দাউদকান্দির ঈদগা মাঠে আলাদা আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি বিগত সরকারের আমলের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে জিম্মি করে রেখেছিল এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করেছিল।
শফিকুর রহমান একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গড়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে।’
তিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কার নিয়ে কথা বলেন। তার মতে, সংস্কার শেষে একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন হওয়া জরুরি।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানান।
তিনি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ধৈর্য ও চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে মানুষের মন জয় করেন এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
শনিবার দুপুরে দাউদকান্দি ঈদগাঁও মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি) আসনের জামায়েত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জান লাভরুর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
দুই দিনের কুমিল্লা সফরের প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ও রাতে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম) নির্বাচনী এলাকা ও কুমিল্লা-৬ (সদর) নির্বাচনী এলাকায় আলাদা দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।


