প্রতিটি স্কুলকেই ভালো স্কুলে পরিণত করতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা

প্রতিটি স্কুলকেই ভালো স্কুলে পরিণত করতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।

তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি স্কুলকেই ভালো স্কুলে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের সহজাত মেধা ও আগ্রহের বিকাশ সম্ভব হবে।’

মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা লক্ষ্য করা যায়, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এই বাস্তবতায় শিক্ষাক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভারসাম্য নতুন করে পর্যালোচনা করার সময় এসেছে।

এসময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহশিক্ষা কার্যক্রমের চেতনা আরও বিস্তৃত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

আরও পড়ুন

শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই, পরীক্ষা কিংবা শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক জ্ঞানার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক চর্চা, সমাজসেবা ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিভা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশই প্রকৃত শিক্ষার মূল লক্ষ্য। শিক্ষাজীবন যেন আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ হয় সেই দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সব অংশীজনের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ এর অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে মোট ৯৮১ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে ২৬১ জন নির্বাচিত হন। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা।

এসময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এই বৈচিত্র্যময় মেধাকে সঠিকভাবে লালন ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।’

অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে সি আর আবরার জানান, পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই নারী। বাংলা ও ইংরেজি রচনা, বক্তব্য এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেও মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব রেহানা পারভীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad