বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে কোনো প্রভাব পড়বে না। খালেদা জিয়ার পক্ষে যে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনেও নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত হবে না।
নির্বাচন কমিশন সিচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী আইনে শুধু বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচন স্থগিত করার বিধান রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বান কমিশন এখনো বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেনি। খালেদা জিয়ার পক্ষে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও সেসব আসনে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ হয়নি। তাই তাঁর মৃত্যুতে এসব আসনে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল বা স্থগিত হবে না।
খালেদা জিয়ার পক্ষে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এসব আসনে বিএনপির একাধিক বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত নির্বাচনী আইনের ১৫(১) ধারা অনুসারে, কোনো আসনের রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবেন।
এছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পর্ব শেষ হওয়ার পর “প্রতিদ্বন্দ্বী” প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবেন রিটার্নিং অফিসার।
এছাড়া ১৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি এমন কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিলের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। সেই আসনে পরবর্তীতে নির্বাচন আয়োজনের নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে আগেই যারা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরকে নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে না।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুসারে সোমবার সারা দেশে মনোনয়নপত্র জমাদান পর্ব শেষ হয়েছে। আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে। এরপর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবেন রিটার্নিং অফিসার। অবশ্য মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে কেউ প্রার্থীতা ফিরে পেলে তাকেও বৈধ প্রার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আগামী ২০ জানুয়ারি বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।


