জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি ঢাকায় এ মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এডিটরস কাউন্সিল ও নোয়াবের আয়োজনে মব সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ কে আজাদ বলেন, ‘আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। দেশের সব প্রান্ত থেকে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে জানুয়ারির মাঝামাঝি ঢাকায় একটি জাতীয় মহাবেশ করব। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানাকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সাম্প্রতিক হামলার বিচার নিশ্চিত করা।’
সভায় নোয়াব সভাপতি সমন্বিতভাবে গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও সময়মতো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘সেদিন আগুন আর ১৫ মিনিট চললে সাংবাদিকরা দমবন্ধ হয়ে মারা যেতে পারতেন।’
এ কে আজাদ আরও বলেন, ছায়ানট ও উদীচীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তব্যে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ হামলায় প্রথম আলো কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়। একই রাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ সময় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরকে হয়রানির ঘটনাও তুলে ধরা হয়। বক্তারা এসব ঘটনাকে গণমাধ্যমের জন্য ‘কালো রাত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে সড়কে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।


