ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলগুলো থাকার উপযোগী, ভীতির কোনো কারণ নেই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে কারিগরি মুল্যায়ন ও মেরামত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কারিগরি প্রতিবেদনে কোনো হল ব্যবহারের অনুপযোগী বা হলে থাকা যাবে না এমন কোনো মন্তব্য করেননি বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি যেসব সংস্কার কাজের সুপারিশ করেছেন সে অনুযায়ী তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল মেরামত কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৪ ডিসেম্বর কারিগরি সাব-কমিটিগুলো ২০টি হল ও ২টি হোস্টেলে র্যাপিড ভিজ্যুয়াল পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ করে। পরে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর কমিটিগুলো তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেয়। সে মোতাবেক কাজ চলছে।
এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ সাইটে আনার মাধ্যমে শামসুন নাহার হলের একটি বাথরুম ব্লকের মেরামত কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক খালি করে জরুরি ভিত্তিতে প্লাস্টিক ট্যাংক স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও তিনটি হলের চলমান মেরামত ও সংস্কার কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি জানান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে মোট ১৭৫টি কক্ষের মধ্যে ১৬৭টি কক্ষের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কক্ষের রং করা শেষ হয়েছে। অন্যান্য কক্ষ, বারান্দা, বাথরুম, মসজিদ, ডাইনিং ও রিডিং রুমসহ বিভিন্ন অংশে মেরামত কাজ চলছে। সূর্যসেন হলে মোট ১৪১টি কক্ষের সবগুলোর মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কক্ষের রং করা শেষ হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ১২১টি কক্ষের সবগুলোর মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি কক্ষের রং করা শেষ হয়েছে। বাথরুম ও রিডিং রুমের টাইলসসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত শেষের পথে।
আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব হলের বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।


