বর্তমানে জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। বুধবার ‘গ্রিনওয়াচ নিউজ ম্যাগাজিন’ ও অনলাইন পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এই আহ্বান জানান।
বক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামগ্রী ও ব্যাটারির দাম আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় এ খাতে বিনিয়োগ এখন অত্যন্ত লাভজনক। যুৎসই পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সরকারের ২০৪০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন করা সম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য জসিম উদ্দিন আহমদের প্রধান অতিথিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জাকির হোসেন খান। গ্রিনওয়াচ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হক, ডিপিআই’র সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ।
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন নাজমা আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী নূরুল হুদা চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, বাংলাদেশ পোস্টের সম্পাদক সদরুল হাসান প্রমুখ।
এম জাকির হোসেন খান বলেন, কার্বন ট্যাক্স ধার্য করলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। এ ছাড়া কার্বন ট্রেডিং ও উদ্ভাবনী উপায়ে (যাকাত, দান ইত্যাদি) ফান্ড গঠন করে ছোট উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। দ্রুত উত্তরণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করে উন্নয়ন নজরদারির দাবি জানান।
বর্তমানে ৭ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন টাকার বাজেটে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ওপর নির্ভরশীল না থেকে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনে এই বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেন।


