দেশের চলচ্চিত্রের সূতিকাগার বলা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনকে (বিএফডিসি)। প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠান অটোমেশনে গেলেও এটি এতদিন সেই পর্যায়ে যায়নি। সেই যাত্রা শুরু হলো মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)। এ দিন সন্ধ্যায় ‘প্রজন্মে ঐতিহ্যে নবজাগরণ—বিএফডিসির আধুনিক আয়নে উত্তরায়ন’ স্লোগান সামনে রেখে এফডিসির সব সেবা সফটওয়্যার অটোমেশনের উদ্বোধন করেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। একই সময়ে সংস্কারকৃত সাউন্ড রেকর্ডিং স্টুডিও, সংস্কারকৃত ঝর্ণাস্পট এবং জহির রায়হান সিনে-আর্কাইভেরও উদ্বোধন করা হয়।
বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুমা আক্তার তানি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, “এফডিসিতে যত ধরনের সেবা রয়েছে, তার সব আবেদন এখন অনলাইনে করা যাবে। ছাড়পত্র, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন, শুটিং ফ্লোর বুকিং—সবই এখন থেকে অনলাইনে হবে।”
জানা গেছে, অটোমেশনের ফলে বিএফডিসির ২০টির বেশি সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে। এমডি তানি আরও জানান, “আগের মতো ফাইল নিয়ে দৌড়াতে হবে না। যারা এখানে আসেন, সবাই ক্রিয়েটিভ মানুষ। তাদের যত দ্রুত সেবা দিতে পারব, তারা তত ভালোভাবে নিজেদের চলচ্চিত্র বা নির্মাণে মনোযোগ দিতে পারবেন।”
পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কত টাকা লেগেছে—জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করতে রাজি হননি। তার দাবি, প্রায় শূন্য বাজেটেই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।
তানির ব্যাখ্যা, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। ফলে আগের তুলনায় আমাদের আয় বেড়েছে। সেই অর্থের কিছু অংশ ব্যয় করেই সংস্কার কাজ করেছি। সফটওয়্যার অটোমেশনে সাধারণত অনেক টাকা লাগে। আমরা দেশের সেরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি জানিয়েছি। তাদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র খরচে পুরো অটোমেশনের কাজ করছে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বিএফডিসিতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করার সুযোগ পাবেন। বিদেশে থাকলেও অনলাইনে আবেদন করে কাজ করা যাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএফডিসিতে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। সিনেমার স্ক্রিপ্টিং থেকে উৎপাদন ও পরিবেশন—সব ধাপ একটি ইকোসিস্টেমের আওতায় আনা হবে।
বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। তিনি বলেন, “দেশের সব ক্ষেত্রে একটা জাগরণ তৈরি হয়েছে। সেই জাগরণ চলচ্চিত্রেও আসবে বলে আমরা আশা করি। অটোমেশনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, “এর ফলে মনোপলি সিস্টেম বন্ধ হলো। আগে এফডিসির পার্টি (নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান) না হলে শুটিং ফ্লোর, ক্যামেরা বা অন্য কোনো সেবা পাওয়া যেত না। এখন সেটা বন্ধ হবে। আগে যারা এফডিসি পার্টি ছিল, তারা শিফটে ৮ হাজার টাকায় ফ্লোর ভাড়া নিয়ে অন্যদের কাছে ১২ হাজার টাকায় দিত। এখন সরকারি রেট ছাড়া অন্য রেটে কেউ ভাড়া দিতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এখন ধরে নিই আমার ডাবিং স্টুডিও লাগবে কিন্তু আমি আছি কক্সবাজারে। সেখানে বসেই অনলাইনে দেখে নিতে পারব তিন দিন পরে কোন স্টুডিও খালি আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি বুকিং করতে পারব অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এ জন্য একজন প্রোডাকশন ম্যানেজারকে দিনের পর দিন এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংয়ে ঘুরতে হবে না।”
চলচ্চিত্রের অন্যান্য প্রযোজক–পরিচালকেরা বলেন, অটোমেশনে এমন কোনো জটিল সিস্টেম রাখা যাবে না, যাতে সুবিধার বদলে অসুবিধা বাড়ে। তারা আশা ব্যক্ত করেন, বর্তমান এমডি বিষয়গুলো নজরে রাখবেন।


