ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা নয়শ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ আছেন শতাধিক মানুষ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে মালাক্কা প্রণালীর ওপর একটি বিরল ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ায়। টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসে এক লাখেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। যেসব এলাকা এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, কর্তৃপক্ষ আকাশপথে সেখানে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। সেই সঙ্গে প্যারাসুটের সাহায্যে ত্রাণ ও জরুরী সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম আচেহ তামিয়াং। ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। অনেকে হারিয়েছেন মাথা গোজার ঠাঁই, বেশিরভাগ বাড়িতেই কোমর সমান কাদামটি। পর্যাপ্ত খাবার পানি ও শুকনো খাবারের অভাবে দিশেহারা অনেকে। সেই সঙ্গে চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
লিনতাং বাহাও গ্রামের এক বেঁচে থাকা ব্যক্তি বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, ‘বন্যার পানির তীব্র স্রোতে এলাকার সবচেয়ে উঁচু বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে তারা প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন।
তিনি জানান, কেউ কেউ তাদের ছোট ছোট শিশুদের নিয়েই ছাদে আশ্রয় নেয় এবং তিন-চার দিন খাবার-পানীয় ছাড়াই সেখানে ছিলেন।
লিনতাং বাহাওয়ের কর্মকর্তারা জানান, কেবল এ গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০০টি পরিবার।
অঞ্চলের গভর্নর বলেন, ‘উদ্ধারকারী দল এখনো কোমর-সমান কাদার মধ্যে নিখোঁজ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মরদেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। অনেক মানুষের জরুরী ত্রাণ ও চিকিৎসা প্রয়োজন। আচেহর দুর্গম বেশকিছু এলাকায় এখনো উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি। মানুষ বন্যায় নয়, অনাহারে মারা যাচ্ছে। বাস্তবতা এটাই।’
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একটি কারাগার ডুবে যাওয়ায় সেখানকার বন্দিদের বের করে দেওয়া হয়, কারণ তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার উপায় ছিল না।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনামে মোট মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।


