গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সহপাঠীসহ রিমান্ডে ৩

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সহপাঠীসহ রিমান্ডে ৩
প্রতীকী ছবি | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি
Advertisement
Advertisement

ঢাকার আশুলিয়ার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই সহপাঠীসহ তিনজনের বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম তাজ (২৩), শ্রাবণ শাহা ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (২৮)।

এর মধ্যে তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ শাহাকে তিন দিন এবং অন্তু দেওয়ানকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়ার রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম সুমন ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন, আসামিদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অশ্লীল ছবি-ভিডিও উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কি না তা জানার স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তিনজনের বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে পিকনিকের কথা বলে দেলোয়ার, তাজুল এবং শ্রাবণ বাদীকে আশুলিয়ার ফুলের টেক এলাকায় নিয়ে যান।

পথে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়। এতে ভুক্তভোগী জ্ঞান হারান।

আরও পড়ুন

ওইদিন বিকালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে অভিযুক্ত তিনজনের মেসে দেখতে পান এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন।

পরে জানতে পারেন, ধর্ষণের সময় ওই তিনজন তার ছবি-ভিডিও ধারণ করেছেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে বা আইনি পদক্ষেপ নিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এমনকি অ্যাসিড দিয়ে মুখ বিকৃত করে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়। এসব হুমকির মুখে বিভিন্ন সময়ে তারা ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর ছবি-ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বাদীকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরে ৬ নভেম্বর সকালে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে আশুলিয়ার বাইশমাইল এলাকায় তাকে আটকান দেলোয়ার, তাজুল ও শ্রাবণ।

তারা জানান, অন্তু দেওয়ান তার (বাদী) সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। প্রস্তাবে রাজি না হলে বাদীকে মারধর করা হয় এবং জোর করে নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়।

তবে তিনি কোনোরকমে সেখান থেকে পালিয়ে ক্যাম্পাসে এসে জ্ঞান হারান।

সহপাঠী ও শিক্ষকেরা তাকে প্রথমে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর বাদীর পরিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও দীর্ঘদিন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাদীর বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অন্তু দেওয়ানের নেতৃত্বে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি মধ্যরাতে মেসে ডেকে একজন শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্তু দেওয়ানসহ আটজন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।

এই নির্যাতনের ঘটনার পর ২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

মামলা করার পর ওইদিন  রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন সহপাঠীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad