রংপুরে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুতে সংঘর্ষ, আহত ৩

রংপুরে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুতে সংঘর্ষ, আহত ৩
রংপুরে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্টে রিং পড়ানোর সময় এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছেন তিনজন।

বৃহস্পতিবার রাতভর চলা এই উত্তেজনা শুক্রবার সন্ধ্যাতেও ছিল।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মোকছেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালটিতে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে রোগীর হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরিবারের একজনের স্বাক্ষর নিয়ে অপারেশন করার সময় মারা যান তিনি।

এ সময় স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের লোকজন হামলা চালায়। এতে রোগীর ছেলে শাফিউল ইসলাম, শালা হুমায়ুন কবির ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিয়ন আহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা এবং কালক্ষেপণের কারণেই আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টির ব্যাখ্যা চাইতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। হাসপাতালের লোকজন রড দিয়ে আমাদের আঘাত করেছে। “মব” তৈরি করে আমাদের বের করার চেষ্টা করে হাসপাতালে নিযুক্ত সন্ত্রাসীরা।’

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ব্যাখ্যা দেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আসমাউল রিজাল। তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলা অবস্থায় তার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়েছে। তাই ওইদিনই বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে তাকে আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) নেওয়া হয়। এ সময় নিয়মানুযায়ী তার ছেলের কাছে সম্মতি সই নেওয়া হয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘রোগীর মৃত্যুর পর জানানো হলে রোগীর স্বজনদের আচরণে পরিবর্তন আসে। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সেখান থেকে লাইভে চলে যান এবং অভিযোগ আনেন এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য দিচ্ছে না। এ নিয়ে সেখানে একটা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা বারবার সেখানে থাকা স্বজনদের বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তারা বুঝতে চাননি।’

‘আইসিইউতে যেহেতু অনেক ক্রিটিক্যাল রোগী থাকে, তাই তাদের বারবার বলি করিডোরে গিয়ে আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই। আমরা তাদের সহযোগিতা দিতে চাইলেও তারা কোন সহযোগিতা করেননি’, বলেও জানান ওই চিকিৎসক।

হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক মিরাজুল মহসিন জানান, ‘মব তৈরি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। সমস্ত ডকুমেন্ট আছে হাসপাতালে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীন কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর