বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের কাইল্যার বাজার এলাকার মূল সড়কের পাশে থাকা জলাশয় গোপনে বাণিজ্যিকভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জলাশয়টির আয়তন ১ দশমিক ২০ একর।
এতদিন রেলওয়ের জলাশয় সংলগ্ন জমির মালিকের নামেই ব্যবহারের জন্য লিজ দেওয়া ছিল। কিন্তু সেই আইন অমান্য করে রেলের একটি চক্র বাণিজ্যিকভাবে বিএনপি-জামায়াতের ২০ জনের নামে জলাশয় লিজ দেয়।
বিগত ৩০ বছর ধরে রেলওয়ের বহু জমি ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমেও ওই স্থান পানিতে ভরে রয়েছে। পেছনে ৮০টি প্লট থাকা একটি আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে।
রেলওয়ে দপ্তর জানায়, কাগজপত্র অনুযায়ী বগুড়া সদর উপজেলার চকবৃন্দাবন মৌজার তিন নং খতিয়ানের ৭২৪ নম্বর দাগটি পুকুর শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ আছে। সেই পুকুর শ্রেণির জলাশয়কে বাণিজ্য হিসেবে একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক কাউন্সিলরের লোকজন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ২০ জনের একটি দল। বিএনপি ও জামায়াতের কিছু লোকজন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, পুকুর/ডোবা/ জলাশয় যদি এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়া হয়, যাতে পুকুর/ডোবা/জলাশয় ব্যবস্থাপনার কারণে সামাজিক এবং পরিবেশের সমস্যার সৃষ্টি হয়, তাহলে ওই সমস্ত জায়গা, জলাশয়ের ধারে বাড়ির মালিকদেরকে বিনা টেন্ডারে বছরভিত্তিক লাইসেন্স দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। কৃষিকাজে লাইসেন্সভুক্ত জমি বা মৎস্য চাষের জন্য পুকুর/ডোবা কোনোক্রমেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।
ওই এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ চৌধুরি, আকতার হোসেন, শাহনাজ পারভীন, শাহ রাশেদুল হাসান, মনিরুল হক, নূর ইসলাম, এনামুল হক, আবুল কাশেম টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, রেলের জলাশয়টি নীতিমালা অনুযায়ী বিনা টেন্ডারে তাদের নামে লাইসেন্স করার জন্য এরই মধ্যেই বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তারাই জলাশয়টি লিজ পাওয়ার হকদার। কিন্তু কয়েকদিন আগে স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু জলাশয়টি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলের চেষ্টা করছে। একপাশে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলা শুরু করেছে। অন্য প্রান্তে বালু ফেলে ভরাটেরও চেষ্টা করেছে ভূমিদস্যুরা।
রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জলাশয়টি দখলের চেষ্টা করছে চক্রটি। লিজ পাওয়ার জন্য মহাপরিচালক বরাবর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকায় চিঠি দেয় তারা। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে রাজশাহী আবার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লালমনিরহাটকে চিঠি লেখে। তারপর সেই চিঠির কার্যক্রম অজ্ঞাত কারণে থেমে যায়। এমনকি সেই চিঠির কোনো হদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। গোপনে কিছু কর্মকর্তা তাদের আবেদন বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অন্যদের লিজ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারীরা বাংলাদেশ রেলওয়ে বগুড়ার ৩ ও ৪ নং কাছারি অফিসের কানুনগো গোলাম নবীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা জলাশয়টি ভূমিদস্যু চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। এ বিষয়ে জানতে গোলাম নবীকে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম খায়রুল বাশার বলেন, প্রচলিত আইনে লিজ নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। বৈধ কাগজপত্র দিয়ে রেলের জায়গা বাণিজ্যিকভাবে লিজ নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এরশাদুল বারী এরশাদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু আমার নামে কোনো কাগজ নাই। আমার ভাই পেছনে জমি থাকার সুবাদে বাণিজ্যিকভাবে লিজ নিয়েছে। তিন বছরের জন্যে ৫৯ হাজার টাকা লিজের জন্য রেলওয়ের কাছে জমা দিয়েছে। তারা বৈধভাবেই কাজ করছে। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের সকলেরই অংশ রয়েছে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিম) মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনাল এস্টেট কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
‘জলাশয়টি কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। কেউ দখল করতে চাইলে প্রয়োজনে আমরা মামলা করব’ বলেও জানান তিনি।


