বয়সে ছোট হলেও কাঁধে বড় দায়িত্ব। শৈশব মাতিয়ে রাখা খেলনা বা বই-খাতা নয়, জীবিকার তাগিদে কাঁধে বাদামের ঝাঁকা। মানিকগঞ্জের ধল্লা সেতুর পাড়ে প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে জীবনের চাকা ঘোরাচ্ছে দুই ভাই মুসা (১১) ও ইকরাম (১০)।
প্রতিদিন বিকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ধল্লা ভাষা শহীদ রফিক সেতুর আশপাশে দেখা যায় এই দুই শিশুকে। পথচারীদের ডেকে ডেকে বাদাম বিক্রি করে তারা। এভাবেই চলছে তাদের প্রতিদিনের জীবনের সংগ্রাম।
মুসা-ইকরামের বাবা দীন ইসলামও পেশায় বাদাম বিক্রেতা। থাকেন সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ভাড়া বাসায়। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাসিরনগরে। বাবা-মা, এক বোন ও পাঁচ ভাই নিয়ে বড় সংসার তাদের। তাই সংসারের খরচ চালাতে বাবার সঙ্গে সন্তানদেরও নেমে পড়তে হয়েছে রাস্তায়।
চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ নিয়েই হাসিমুখে তারা বলতে থাকে ‘বাদাম লাগবে?’ মুসা জানায়, ‘স্কুলে যেতে পারি না, বাদাম বিক্রি করেই ঘর চালাই।’ ছোট ভাই ইকরাম বলে, ‘বিকালে এখানে আসি, বাদাম বিক্রি শেষে রাতেই বাড়ি ফিরি।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২২ সালের জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে। যার মধ্যে ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
২০১৩ সালে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালে তা কমে ২ দশমিক ৭ শতাংশ (প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু) হয়েছে। তবে একই সময়ে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শ্রমে যুক্ত থাকার সামগ্রিক হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। ক্ষতিকর কাজে যুক্ত শিশুশ্রমের হারও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশুশ্রমে যুক্ত ছিল। যার মধ্যে ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশুই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। এ কারণে তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


