জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময়ে প্রাণ হারানো জসিম উদ্দিনের মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিন আসামির দুজনকে ১৩ বছরের এবং একজনকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার সকালে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালত আইনের আওতায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন তিনি।
রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। যেহেতু মামলার বিচার শুরুর আগে আসামিদের শিশু হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাই তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ এর ৩ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আসামি সাকিব ও সিফাত মুন্সিকে ৮ এর ৭ ধারায় পর্ণোগ্রাফি আইনে আরও ৩ বছর করে মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত যে ন্যায়বিচার দিয়েছে, তা লামিয়ার আত্মাকে কিছুটা হলেও শান্তি দেবে।’
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমার মক্কেলরা নির্দোষ। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নলদোয়ানি গ্রামে নানাবাড়িতে যাওয়ার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন নিহত জসিম উদ্দিনের মেয়ে লামিয়া(১৮)। ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় মামলা করেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ অভিযুক্ত সাকিব মুন্সী নামে এক অভিযুক্তকে আটক করে। পরে সিফাত মুন্সী ও ইমরান মুন্সী নামে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে ধর্ষণের ঘটনার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে ২৬ এপ্রিল ঢাকার শেখেরটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ‘আত্মহত্যা’ করেন লামিয়া। পরে তার মরদেহ পটুয়াখালীতে বাবা জসীম উদ্দিনের কবরের পাশে দাফন করা হয়।


