সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নবজাতক চুরির মামলায় আলপনা খাতুন নামের এক নারীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বেগম সালমা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আরও চার আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাসুদুর রহমান জানান, শিশু চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আলপনা খাতুনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলপনা খাতুন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরদোগাছি গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের মাজেদ আলীর স্ত্রী সবিতা খাতুন প্রসব ব্যথা অনুভব করলে তাকে সিরাজগঞ্জ রোড গোলচত্বর এলাকার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সিজারের মাধ্যমে সবিতা খাতুন একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। ওই দিন বিকালে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে যান আলপনা খাতুন।
খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতে কামারখন্দ উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সোলাইমান হোসেনের বাড়ি থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে।
এসময় আলপনা খাতুনসহ ছায়রন বেওয়া, মিনা খাতুন, মায়া খাতুন ও তার স্বামী রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। এঘটনায় শিশুটির বাবা মাজেদ আলী বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার আদালত আলপনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।


