ফের শাপলা চেয়ে ইসিতে এনসিপির চিঠি

ফের শাপলা চেয়ে ইসিতে এনসিপির চিঠি
Advertisement
Advertisement

নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে শাপলাকে তালিকাভুক্ত করে তা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বরাদ্দ দিতে আবারও আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই আবেদন জানিয়েছে এনসিপি।

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলা যেকোনোটিই এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। এরপর এপ্রিল মাস থেকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত আইন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া, নিবন্ধনের সময়সীমা, প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ নির্বাচন কেন্দ্রিক নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন দলটির নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ২২ জুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করে এনসিপি। একই সঙ্গে দলের জন্য ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণেরও আবেদন জানায়।

তবে প্রতীক তালিকায় শাপলা নেই জানিয়ে তা বরাদ্দ দেয়নি নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানালে প্রতিবাদ করেন এনসিপির নেতারা। এমনকি এনসিপিতে শাপলা বরাদ্দ না দেওয়া হলে কীভাবে নির্বাচন হয়, তা দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও নিজের ফেসবুক পোস্টে দেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম।

বুধবার পাঠানো আবেদনে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষ এনসিপির প্রতীক হিসাবে ‘শাপলা’-কে চিনতে শুরু করে। এমনকি গত জুলাইয়ে দেশজুড়ে দলটি যে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে সেখানেও দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ খাল-বিল-জলাশয় থেকে শাপলা তুলে এনে এনসিপির নেতাকর্মীদের স্বাগত জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে ৯ জুলাই খবর আসে নির্বাচন কমিশন শাপলাকে এনসিপির প্রতীক হিসেবে তফসিলভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীকের অংশ হওয়ায় নির্বাচনের প্রতীক হিসেবে এটি বিধিমালার তফসিলভূক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ‘শাপলা-কে জাতীয় প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত ব্যাখ্যা আইনানুগভাবে সঠিক নয় এবং এই বিষয়ে কমিশনের গৃহীত অবস্থানের আইনি ভিত্তি নেই।’

বুধবার পাঠানো আবেদনে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উক্ত বৈঠকে এনসিপি স্পষ্ট করে জানায় যে, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(৩) এবং অন্যান্য বিদ্যমান আইন অনুসারে ‘শাপলা’ প্রতীক তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। ১৯৭২ সালের অর্ডারের তৃতীয় তফসিল এবং ১৯৭২ সালের বিধিমালার পরিশিষ্ট-ক তে জাতীয় প্রতীকের নকশা আঁকা আছে। সে অনুযায়ী জাতীয় প্রতীক হচ্ছে লালচে এবং হলুদ রঙের যুগল বৃত্তের ভেতরে লালচে এবং হলুদ রঙে অংকিত পানির ওপর ভাসমান শাপলা ফুল, দুপাশে দুটি ধানের শীষ, উপরে তিনটি সংযুক্ত পাট পাতা যার ঠিক দুই পাশে দুটি করে চারটি তারকা-এর সন্নিবেশ ও সামষ্টিক রূপ।

শাপলা জাতীয় প্রতীকের চারটি স্বতন্ত্র উপাদানের একটি উল্লেখ করে এনসিপি চিঠিতে লিখেছে, ‘নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে জাতীয় প্রতীকের চারটি উপাদানের একটি উপাদান “ধানের শীষ” বরাদ্দ দিয়েছে এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিকে আরেকটি উপাদান “তারা” প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে। সেহেতু নির্বাচন কমিশন “শাপলা”-কে প্রতীকের তালিকাভুক্ত করে রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দিতে পারে।”

উদাহরণ হিসেবে জাতীয় ফল ‘কাঁঠাল’-কে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতীক এবং তৃণমূল বিএনপি নামের আরেকটি দলকে “সোনালী আঁশ” প্রতীক বরাদ্দের কথা তুলে ধরা হয়।

সে হিসেবে এনসিপি মনে করছে, “শাপলা” জাতীয় ফুল হলেও দলের প্রতীক হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

শাপলাকে প্রতীক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কোন আইনি ভিত্তি দ্বারা গঠিত না হওয়ায় এটিকে এনসিপির প্রতি বিরূপ মনোভাব ও স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

এনসিপি বলছে, গত ৩ আগস্ট কমিশনের কাছে লেখা এক চিঠিতে প্রতীক সংরক্ষণের জন্য  শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলার কথা উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু মঙ্গলবার কমিশনের সিনিয়র সচিব সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার প্রতীক তালিকায় শাপলা-কে অন্তর্ভুক্ত করা না হওয়ায় এনসিপিকে প্রতীকটি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না।

নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী বলে মনে করছে এনসিপি। কমিশনের এই অবস্থান অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ও সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিপি আশা করে, নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র অনুকূলে ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা, এবং ৩. লাল শাপলা থেকে যেকোন একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আগের মনোভাব পরিত্যাগ করবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad