রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে নুরুল হক, ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় আরও চারজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব এ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্তত দু’জন ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোয়ালন্দের নতুন পাড়া (মাল্লাপট্টি) এলাকার জীবন সরদার (২২), মাল্লাপট্টী শাকের ফকির পাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম শুভ (১৭), ফরিদপুর জেলার মোহাম্মদ ফেরদৌস সরদার (৩৬) ও গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের ছালামের ছেলে বিল্লু।
এর আগে ওই মামলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেওয়ান পাড়া গ্রামের শাফিন সরদার (১৮), উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের এক নম্বর দিরাস্তুল্লাহ মৃধা পাড়ার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ মৃধা, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিরু মৃধা, দেওয়ান পাড়া গ্রামের এনামুল হক জনি (৩২) ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া গ্রামের কাজি আরিফের ছেলে কাজী অপু (২৫) এবং গোয়ালন্দ উপজেলার দিরাজতূল্লাহ মৃধা ডাঙ্গী গ্রামের মো. হায়াত আলী মৃধাকে (২৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শরীফ আল রাজীব বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে তিন হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছ। এর আগে এই মামলার আরও সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় গ্রেপ্তার মোট ১১ জনের মধ্য ছয়কে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের মধ্যে একজন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত শুক্রবার দুপুরে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় পুলিশ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে পুলিশের ওপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পরে উত্তেজিত জনতা নুরাল পাগলার দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর কবর থেকে তার মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেয়।


