চলতি ২০২৬ সালের পর থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া বছরে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
তবে ট্রাম্প ঠিক কোন অর্থায়নের কথা বলছেন কিংবা বছরের শেষে তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। কারণ, দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর দেওয়া ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক অনুদানের মেয়াদ রয়েছে।
‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলের এখন আর এই সহায়তার প্রয়োজন নেই। আমি এবং নেতানিয়াহু মাসখানেক আগেই চুক্তি করেছি যে বছরের শেষ থেকে এই সাহায্য প্রদান বন্ধ থাকবে। তবে তাদের সত্যিই কোনো প্রয়োজন পড়লে আমেরিকা অবশ্যই পাশে দাঁড়াবে।’
ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সহায়তাকে ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে রিপাবলিকানদের আক্রমণ করছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বিশেষ করে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করেন।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষত ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মাঝে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অন্ধ সমর্থন দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের অনেক সদস্যও ইসরায়েলের সমালোচনা শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রচারের সময় বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল ট্রাম্পকে ভুল বুঝিয়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর অনুদানের অর্থ ছাড় করতে মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটে আলাদা বাজেট অনুমোদন পেতে হয়। গত অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু নিজেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে গেছে। প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য ভবিষ্যতে আর আগে পাওয়া বিশাল অঙ্কের সাহায্য আসবে না, এর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’


