বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে দেশে আসা নতুন কোচের একটি অংশ দিয়ে প্রাথমিকভাবে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, নতুন কোচের একটি অংশ ইতোমধ্যে দেশে এসেছে এবং রেলবহরে যুক্ত হয়েছে। এসব কোচ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও কোচ দেশে এলে যাত্রী চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালু এবং পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়। দেশের সব রেলপথ এখনো ব্রডগেজে রূপান্তরিত না হওয়ায় আপাতত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ রুটে ট্রেন চালুর আগে রেলপথের গেজ রূপান্তরের পাশাপাশি পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা-ও যাচাই করতে হবে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হলে ভারতের অংশেও রেলপথের সংযোগ প্রয়োজন। শুধু বাংলাদেশের অংশে রেললাইন নির্মাণ করলে প্রত্যাশিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে না। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের সম্মতি জরুরি। বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন থাকলেও কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনে মালামাল ওঠানো-নামানোর সুবিধা এবং যাত্রীদের চাহিদা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব স্টেশনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বেশি, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইন সম্প্রসারণ, লুপ লাইন বৃদ্ধি এবং ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাহিদ হাসানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


