বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পদায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল জারি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. তৌফিক এনাম এবং বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন গত ২১ সেপ্টেম্বর এ রিট আবেদন করেন। এতে জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির উল্লেখ করে বলা হয়, বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোকে সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিন বিচারককে নির্বাহী বিভাগের যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ওই তফসিলে নেই।
পদায়ন পাওয়া তিন বিচারকের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কামরুল হাসানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর ৯ মার্চ যুগ্ম জেলা জজ জি এম ফারহান ইসতিয়াককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পিএস এবং ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রিটে এসব পদায়নের প্রজ্ঞাপনকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদের বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই তিন বিচারককে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নেরও আবেদন করা হয়েছে।


