জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার সাজার রায়কে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি এ রায়কে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছেন। এ রায় অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। জুলাই শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছি।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন মাহবুবউল আলম হানিফ। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও নির্বিচারে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নে তার সহযোগিতা ছিল। এ ছাড়া কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বৈঠকে অধীনস্ত নেতাকর্মীদের বলপ্রয়োগের নির্দেশও তিনি দিয়েছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ সাজা দিয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত দায় ও সুপিরিয়র দায়ের কারণে হানিফকে প্রথম অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইভাবে অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তিনি আরও বলেন, তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য সব আসামিকে পুনরায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
হানিফের মৃত্যুদণ্ডে হতাশ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হানিফসহ চার আসামির সাজার রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি হতাশার কথা জানান।
এ মামলায় হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। অন্য তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার চার আসামিই পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আমির হোসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রায় সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই। এ রায়টি আমার কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে এবং আমি হতাশ।
হতাশার কারণ জানতে চাইলে আমির হোসেন বলেন, কারণ ব্যাখ্যা করা যাবে না।


